পুরুষের শুক্রাণু কতদিন বাঁচে ? বিস্ময়কর তথ্য

পুরুষের শুক্রাণু শরীরের ভেতরে বা বাইরে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ভিন্ন সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকে。নারী প্রজননতন্ত্রের ভেতরে শুক্রাণু সর্বোচ্চ ৫ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে。তবে শরীরের বাইরে বা উন্মুক্ত পরিবেশে এটি সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা মাত্র টিকে থাকে。


পরিস্থিতি অনুযায়ী শুক্রাণুর বেঁচে থাকার সময়কাল:

নারীর শরীরের ভেতরে: সহবাসের পর নারীদের জরায়ু বা ফ্যালোপিয়ান টিউবে শুক্রাণু অনুকূল পরিবেশে সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে。

শরীরের বাইরে (উন্মুক্ত স্থানে): বীর্য শুকিয়ে গেলে শুক্রাণু কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারা যায়。পানি বা উষ্ণ স্থানেও এরা খুব বেশি হলে কয়েক ঘণ্টা বেঁচে থাকে。

পুরুষের শরীরে (অণ্ডকোষে): পুরুষদের অণ্ডকোষে নিয়মিত নতুন শুক্রাণু তৈরি হতে প্রায় ২ থেকে আড়াই মাস সময় লাগে। তবে পরিপক্ক শুক্রাণু শরীরে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে, যা পরে শরীর নিজেই শোষণ করে নেয়।

হিমায়িত অবস্থায়: ফার্টিলিটি ক্লিনিকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে (ক্রায়োপ্রিজার্ভেশন) শুক্রাণু বছরের পর বছর ধরে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব

শুক্রাণুর বেঁচে থাকার সময়কাল নির্ভর করে সেটি কোথায় বা কোন অবস্থায় রয়েছে তার ওপর। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:


১. নারীর প্রজননতন্ত্রের ভেতরে:


পুরুষের বীর্যপাতের পর নারীর প্রজননতন্ত্রের (যোনিপথ বা জরায়ু) ভেতরে শুক্রাণু সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এটি নারীর সার্ভিক্যাল মিউকাসের বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে। অনুকূল পরিবেশে শুক্রাণু জরায়ুর ভেতরে কয়েকদিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে সক্ষম হয়, যার ফলে সহবাসের কয়েকদিন পর ডিম্বস্ফোটন হলেও গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে।


২. শরীরের বাইরে (পরিবেশে):


শরীরের বাইরে বা বাইরের পরিবেশে শুক্রাণু খুব বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে না। বীর্য শুকিয়ে গেলে বা তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিবর্তনের সাথে সাথে শুক্রাণু দ্রুত মারা যায়। সাধারণত বীর্য শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্তই এরা কার্যকর থাকে, যা খুব অল্প সময়ের বিষয়।


৩. পুরুষের শরীরের ভেতরে:


পুরুষের অণ্ডকোষে শুক্রাণু তৈরি হতে মোটামুটি ৬৪ থেকে ৭৪ দিন সময় লাগে। যদি শুক্রাণু দীর্ঘসময় শরীর থেকে নির্গত না হয়, তবে শরীর সেগুলো নিজে থেকেই শোষণ করে নেয় বা নতুন শুক্রাণুর সাথে প্রতিস্থাপিত হয়।


কিছু জরুরি তথ্য:


শুক্রাণু সংরক্ষণ (ফ্রিজিং): বিশেষ ল্যাবরেটরি প্রক্রিয়ায় (ক্রায়োপ্রিজারভেশন) লিকুইড নাইট্রোজেনে শুক্রাণুকে অনেক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব।


আইভিএফ বা কৃত্রিম প্রজনন: ল্যাবে বিশেষ ইনকিউবেটরে রাখা হলে ধৌত করা শুক্রাণু প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।


উল্লেখ্য যে, শুক্রাণুর বেঁচে থাকা এবং এর গুণমান বজায় রাখা অনেকাংশেই জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস, তাপমাত্রা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে। আপনার যদি প্রজনন স্বাস্থ্য বা শুক্রাণুর মান নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্বেগের কারণ থাকে, তবে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।


আপনার কি শুক্রাণুর স্বাস্থ্য বা উর্বরতা সংক্রান্ত অন্য কোনো বিষয়ে জানার আগ্রহ আছে?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন