সবচেয়ে ভালো টুথব্রাশ কোনটি - টুথব্রাশ চেনার উপায়

 সবচেয়ে ভালো টুথব্রাশ কোনটি দাঁতের সুরক্ষায় সবচেয়ে ভালো টুথব্রাশ হলো সেইটি, যার নরম ব্রিসল (Soft bristles) রয়েছে এবং যা আপনার মুখের মাপে ঠিকঠাক বসে। শক্ত ব্রিসলের ব্রাশ দাঁতের এনামেল ও মাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করে। সেরা কয়েকটি টুথব্রাশের ধরন ও ব্র্যান্ড নিচে দেওয়া হলো:

সবচেয়ে ভালো টুথব্রাশ কোনটি

১. ম্যানুয়াল টুথব্রাশ (সাধারণ ব্রাশ)

সেরা ব্র্যান্ড: ওরাল-বি (Oral-B), কোলগেট (Colgate), সেনসোডাইন (Sensodyne) এবং সিস্টেমা (Systema)।

পছন্দ: সংবেদনশীল দাঁতের জন্য Sensodyne Sensitive এবং ক্যাভিটি প্রতিরোধের জন্য Oral-B Cavity Defense খুব কার্যকর।

সুবিধা: সাশ্রয়ী, সহজে বহনযোগ্য এবং সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে দাঁত পুরোপুরি পরিষ্কার করে।

সচেতনভাবে দাঁত ব্রাশ করার পাশাপাশি নিয়মিত দন্তচিকিৎসকের মাধ্যমে দাঁত পরিষ্কার করলে দাঁতের ক্যালকুলাস বা টারটার এবং দাঁতে অবস্থানরত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূরীভূত হয়। পেশাদারীভাবে দাঁতের পরিষ্কারের জন্য টুথ স্কেলিং করা হয়। এ পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতির প্রয়োগ দেখা যায়।

এছাড়াও, টুথব্রাশের সাহায্যে দাঁত পরিষ্কার রাখার উদ্দেশ্যই হচ্ছে দাঁতের আবরণ ও ফাঁকা জায়গায় অবস্থানরত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে দূরে রাখা।

 

বাজারে প্রচলিত অনেক ধরনের টুথব্রাশই আছে। আমরা অনেক সময় হিমসিম খেয়ে যাই কোনটা রেখে কোনটা কিনব। একটি ভালো টুথব্রাশ আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যেমন কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে, তেমনি একটি নিম্নমানের টুথব্রাশ আপনার স্বাস্থ্যহানির কারণ হতে পারে। সৃষ্টি করতে পারে দন্ত ক্ষয় রোগ, মাড়ির প্রদাহ সহ বিভিন্ন রোগ।

তাই ভালো মানের টুথব্রাশ কেনার আগে যেসব বিষয়গুলো ভালোভাবে লক্ষ্য করা উচিত সেগুলো হলো-

১। ব্রাশের সঙ্গে ‘হাইজেনিক ক্যাপ’ আছে কিনা সেটি লক্ষ্য করা। এটি একটি প্লাস্টিকের তৈরি আবরণ যা ব্রাশের ফিলামেন্ট গুলুকে ঢেকে রাখে।

২। ব্রাশের ফিলামেন্টগুলো অবশ্যই নরম হতে হবে। ‘হার্ড ব্র্যাশ’ বা শক্ত টুথব্রাশ মাড়ির প্রদাহ ও দন্ত ক্ষয় রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। দীর্ঘদিন এটি ব্যবহার করলে দাঁতের মাড়ি নিচের দিকে নেমে যাওয়া, দাঁত শির শির করা সহ বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ সমস্যাগুলোর চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

৩। টুথব্রাশের ‘নেক’ বা ঘাড় এটি সোজা হলেই ভালো হয়। এটি বাঁকানো বা হেলানো থাকলে খুব একটা কাজে লাগে না।

৪। ‘হ্যান্ডেল’ বা যে স্থানটি ধরে আমারা ব্রাশ করি সেটি সহজেই হাতের মুঠোয় আসে এমন টুথব্রাশ ব্যবহার করা ভালো।

৫। ছয় সপ্তাহ পর আপনার ব্রাশটি ফেলে দিবেন। সাধারণত দেখা যায়, ছয় সপ্তাহের ভেতর ব্রাশের ফিলামেন্টগুলো ফেটে যায়। ব্যাটারি চালিত ব্রাশের কার্যকারিতা অনেক বেশি, তবে এটি সহজ লভ্য নয়। অবশ্যই ছয় মাস অন্তর অন্তর ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নিবেন।

অধিকাংশ দন্তবিশারদ বা ডেন্টিস্টগণ শক্ত প্রকৃতির টুথব্রাশের পরিবর্তে নরম ও নমনীয় প্রকৃতির টুথব্রাশ ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কেননা, শক্ত ক্ষুদ্র বা কুঁচি প্রকৃতির তন্তু দিয়ে তৈরি টুথব্রাশের ঘর্ষণে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যায় এবং দাঁতের মাড়িকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে ব্যক্তির মনে যন্ত্রণাদায়ক, অসস্তিকর কিংবা বিরক্তিকর অনুভূতির সৃষ্টি হয়।

একই সঙ্গে দৈনিক চিনি জাতীয় খাবারও কম গ্রহণ করা উচিত। খাদ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দাঁতের সুস্থতা নিশ্চিত করা যায় ও দাঁতকে সুরক্ষা করার প্রধান উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ডেন্টিস্ট বা দন্তচিকিৎসকগণ পরামর্শ দেন যে, প্রতিদিন খাদ্য গ্রহণের পর সকালে কিংবা রাতে দু'বার নিয়মিতভাবে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। এর ফলে দাঁতের গঠন সুন্দর ও মজবুত হবে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে দাঁতের ক্ষয়রোধ করবে।

প্রতি তিন মাস অন্তর টুথব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। অবশ্য ওই সময়ের পূর্বেই টুথব্রাশ পরিবর্তন করা যেতে পারে। ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট বা মাউথওয়াশ ব্যবহার করা উচিত, যা দাঁতকে আরও সুরক্ষিত রাখবে।

 

এছাড়া প্রতি ছয় মাস পরপর ডেন্টিস্ট বা দন্তচিকিৎসকের নির্দেশমালা অনুসরণ করা উচিত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন