ভুলে এন্টিবায়োটিক খেলে কি হয়

ভুলে এন্টিবায়োটিক খেলে কি হয় না জেনে বুঝে ভুলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন। ভুলভাবে অ্যান্টিবায়োটিকে ব্যবহারে কী কী সমস্যা হতে পারে-এ বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৬০৬তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. ইফতেখার উল হক খান। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারের শিশু বিভাগের পরামর্শক হিসেবে কর্মরত।

ভুলে এন্টিবায়োটিক খেলে কি হয়

প্রশ্ন : ডোজ কম বা বেশি খাওয়ানো, যে কয়দিন খাওয়ানো দরকার, সেই কয়দিন না খাওয়ানো, অথবা যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানে খাওয়ানো- এ রকম ঘটনায় শিশুর কী সমস্যা হতে পারে?


উত্তর : এই রকম ঘটনায় দুই রকম সমস্যা হতে পারে। উনি হয়তো সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করলেন না, কম মাত্রায় ব্যবহার করলেন, হয়তো খাওয়ার কথা ছিল দুই চামচ করে উনি খাওয়লেন আধা চামচ করে। হয়তো চিকিৎসক তাকে পরামর্শ দিয়েছেন সাতদিনের, বাচ্চা ভালো হয়ে গেল উনি হয়তো বন্ধ করে দিলেন। সেই ক্ষেত্রে যেই জিনিসটি সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়, সেটি হলো অ্যান্টিবায়োটিকের রেজিসটেন্স বৃদ্ধি পেতে পারে। কার্যকরিতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পরে হয়তো এই অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করবে না-এটি একটি। আরেকটি হতে পারে, রোগ পুনরায় হতে পারে। তিনদিনে হয়তো কমে গিয়েছিল। অথবা পরে দেখা যায় অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে দুইদিন, চারদিন পর রোগটি পুনরায় দেখা দিতে পারে।


আরেকটি হলো বেশি মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া। হয়তো চিকিৎসক বলেছেন এক চামচ করে দিনে তিনবার খেতে। উনি হয়তো দেড় চামচ করে চারবার খাওয়াচ্ছেন। এতে দেখা যায় কিছু কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়। বিভিন্ন ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয়।


এই জন্য শিশু আরো বেশি ভুগতে পারে। বেশি বা কম দুটোই ক্ষতিকর। যে অ্যান্টিবায়োটিক যত দিন খাওয়ানোর কথা, সেটি পূর্ণ মাত্রায় খাওয়াতে হবে। নয়তো ক্ষতি হবে।


ভুলে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ডোজ মিস হলে রক্তে ওষুধের মাত্রা কমে যায়, যার ফলে ব্যাকটেরিয়া পুনরায় বংশবৃদ্ধি করার সুযোগ পায়। এর ফলে চিকিৎসা দীর্ঘায়িত হতে পারে, সংক্রমণ আবার ফিরে আসতে পারে এবং ভবিষ্যতে ওই অ্যান্টিবায়োটিক আর শরীরে কাজ না করার ঝুঁকি (অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স) তৈরি হয়। 

ভুলে গেলে করণীয়:

মনে পড়ার সাথে সাথে: মিস হওয়া ডোজটি দ্রুত খেয়ে নিন।

পরবর্তী ডোজের সময় হলে: যদি পরবর্তী ডোজ নেওয়ার সময় প্রায় হয়ে যায়, তবে মিস হওয়া ডোজটি বাদ দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে রুটিন চালিয়ে যান।

ভুল করেও ডাবল ডোজ নয়: ক্ষতিপূরণ হিসেবে কখনোই একসাথে দুটি বা তার বেশি ডোজ গ্রহণ করবেন না, এতে মাত্রাতিরিক্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন বমি ভাব, ডায়রিয়া বা পেটে ব্যথা) হতে পারে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন