এন্টিবায়োটিক কি খালি পেটে খাওয়া যায় । খাওয়ার ৭ টি নিয়ম

এন্টিবায়োটিক কি খালি পেটে খাওয়া যায় । খাওয়ার ৭ টি নিয়ম 

হ্যাঁ, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক খালি পেটে খাওয়া যায়, তবে বেশিরভাগই ভরা পেটে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ওষুধের কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মূলত ওষুধের ধরন এবং আপনার পেটের অবস্থার ওপর নির্ভর করে।


খালি পেটে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি: 

খালি পেটে খাওয়ার নিয়ম: 'খালি পেটে' অর্থ হলো খাবার খাওয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে অথবা খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে।

কোনগুলো খালি পেটে খাবেন: কিছু অ্যান্টিবায়োটিক যেমন- অ্যাম্পিসিলিন (Ampicillin) খালি পেটে খেলে শরীর ভালোভাবে শোষণ করতে পারে এবং দ্রুত কাজ করে।

ভরা পেটে খাওয়ার কারণ: বেশিরভাগ অ্যান্টিবায়োটিক ভরা পেটে (খাওয়ার পর) খাওয়া উচিত। এতে বমি ভাব, পেট ব্যথা বা গ্যাস্ট্রিকের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো কমে যায়। 

বিশেষ পরামর্শ: অ্যামোক্সিসিলিনের (Amoxicillin) মতো কিছু অ্যান্টিবায়োটিক ভরা বা খালি—উভয় অবস্থাতেই খাওয়া যায়। তবে খালি পেটে খেলে কারো কারো পেটে অস্বস্তি হতে পারে।

যেহেতু অ্যান্টিবায়োটিকের ধরন অনুযায়ী খাওয়ার নিয়মে ভিন্নতা থাকে, তাই সেবনের আগে অবশ্যই ওষুধের প্যাকেটের নির্দেশনা পড়ে নিন অথবা আপনার চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টের পরামর্শ মেনে চলুন। ডাক্তারের দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স মাঝপথে বন্ধ করবেন না, পুরোপুরি শেষ করবেন

এন্টিবায়োটিক খালি পেটে খাওয়া যায় কিনা

অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের সময় সাতটি সতর্কতা মেনে চললে আমরা ঠেকাতে পারব এই বিপদ।


১. ডায়রিয়া বা পেট খারাপ হলেই অনেকে মেট্রোনিডাজল কিংবা অ্যাজিথ্রোমাইসিনজাতীয় ওষুধ (অ্যান্টিবায়োটিক) সেবন করে ফেলেন। অথচ বেশির ভাগ ডায়রিয়া এমনিতেই সেরে যায়। বরং ডায়রিয়া রোগীর পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণে বারবার ওরস্যালাইন দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক নয়, বরং ওরস্যালাইনই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাব্যবস্থা।


২. সর্দি-কাশি, জ্বর কিংবা গলাব্যথার মতো সাধারণ মৌসুমি রোগবালাইয়ে অ্যান্টিবায়োটিক নয়, গ্রহণ করুন উপসর্গ উপশমকারী ব্যবস্থা। জ্বর হলে প্যারাসিটামল খেতে পারেন। ঘরোয়া উপায়ে পানির সাহায্য নিয়ে জ্বর কমানোর চেষ্টা করতে পারেন। মাথায় ভেজা কাপড়ের সেঁক, শরীর মুছে দেওয়া, মাথায় পানি ঢালা, এমনকি গোসল—কোনোটিতেই বাধা নেই। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা যাবে না। গলাব্যথা বা কাশি হলে উষ্ণ পানীয় গ্রহণ করুন। মধু, কালিজিরা, তুলসী—যেটা খুশি গ্রহণ করুন। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা যাবে না। এসব মৌসুমি জ্বর ভাইরাসজনিত আর অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিপরীতে কাজ করে না।


৩. চিকিৎসক ছাড়া অন্য কারও পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করবেন না। দোকানদারের পরামর্শে, অন্য কেউ এটা খেয়ে উপকার পেয়েছেন বলে বা আগে চিকিৎসক কখনো এ–জাতীয় উপসর্গে দিয়েছিলেন বলে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।


৪. অ্যান্টিবায়োটিক সেবন শুরু করলে পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে হবে। মাঝপথে বন্ধ করা যাবে না। উপসর্গ উপশম হয়ে এলেও যত দিন নির্দিষ্ট করা হয়েছে, তত দিন পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক চালিয়ে যেতে হবে। আবার একটি অ্যান্টিবায়োটিক চলা অবস্থায় উপশম হতে সময় লাগছে বলে চট করে অন্য অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করাও অনুচিত।


ইচ্ছামতো সেবনে কার্যকারিতা হারাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক

৫. একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে নানান রোগের কারণেই। কাজেই একজনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক অন্য কেউ সেবন করাও ঠিক নয়।


৬. প্যাকেট খোলার পর অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে খুব বেশি দিন দেরি করা যাবে না। শিশুদের ক্ষেত্রে একবার অ্যান্টিবায়োটিকের বোতল খোলা হলে পরবর্তী সময়ে অসুস্থ হলে ব্যবহারের জন্য রেখে দেওয়া একদমই অনুচিত।


৭. সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য সব সময় সচেতন থাকুন। নিয়মমাফিক হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির আদবকেতা বজায় রাখা, কফ-থুতু এবং ব্যবহৃত টিস্যু ও রুমাল নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, খাবার ঢেকে রাখার মতো সুঅভ্যাস বজায় রাখুন সব সময়। অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করার চেয়ে সংক্রমণ যাতে না হয়, সেদিকে নজর দিন বেশি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন